দুষ্প্রাপ্য খনিজ সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সমঝোতায় পৌঁছবে বলে আশা করছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, ‘এসব খনিজ সরবরাহ বন্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ খবর রয়টার্স।
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা উপলক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘দুষ্প্রাপ্য খনিজের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি আরো বাধাগ্রস্ত হবে।’
তার মতে, এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি এরই মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদহার বৃদ্ধি ও ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরো বাড়বে।’
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান গতি আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এখনো এক ধরনের উদ্বেগ রয়ে গেছে। অনিশ্চয়তার এক কালো মেঘ আমাদের ওপর ভর করে আছে, এ অনিশ্চয়তাই যেন নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে।’
আইএমএফ প্রধান বলেন, ‘আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার কথা ভেবে দুষ্প্রাপ্য খনিজ প্রবাহ বজায় রাখবে। এ উপকরণগুলো বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ও উদ্ভাবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
দুষ্প্রাপ্য খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বিশেষ করে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, সোলার প্যানেল ও সামরিক সরঞ্জামে এসব খনিজ ব্যবহার হয়। বিশ্বের বেশির ভাগ দুষ্প্রাপ্য খনিজ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র এর অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে বেইজিং যদি রফতানিতে কঠোরতা আরোপ করে, তা বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আইএমএফ প্রধান দুই দেশের প্রতি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে বাণিজ্য সহযোগিতা জরুরি।’